শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘মার্বেল খেলায়’ শত শত নারী-পুরুষ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পৌষ সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৪৫তম বার্ষিক সংকীর্ত্তন ও গোসাই নবান্ন উদযাপন উপলক্ষে গ্রামীণ ঐতিহ্যের মার্বেল খেলার মেলা। ছেলে থেকে শুরু করে ‍বুড়ো এমনকি গ্রামের নারীরা এ মার্বেল খেলার মেলায় অংশ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে শুরু হওয়া মেলা চলবে মধ্য রাত পর্যন্ত। বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী-পুরুষ মেলার প্রধান আকর্ষণ ‘মার্বেল খেলায়’ অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীতকালে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে যাওয়ায় তাদের পূর্ব পুরুষেরা মেলার এই দিনে মার্বেল খেলার প্রচলন শুরু করেন। যা আজও প্রচলিত আছে। তাদের উত্তরসূরী হিসেবে এখন গ্রামীণ ঐতিহ্যের মার্বেল খেলা ধরে রেখেছেন। এ দিনটিকে ঘিরে গ্রামে কয়েকদিন চলে উৎসবের আমেজ। স্থানীয়রা তাদের মেয়ে-জামাইসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের এই মার্বেল খেলায় আমন্ত্রণ জানান। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন এ খেলায় অংশ নিতে।

মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এই গ্রামে ছয় বছর বয়সী সোনাই চাঁদ নামে এক মেয়ের বিয়ের বছর না ঘুরতেই তার স্বামী মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর বাড়িতে একটি নিম গাছের নীচে মহাদেবের আরাধনা ও পূজা অর্চনা শুরু করে বিধবা কিশোরী সোনাই। সাধনার মার্গে সিদ্ধ হয়ে তার অলৌকিক কর্মকাণ্ড এলাকা ছাপিয়ে বাইরেও প্রচার পায়। সোনাইয়ের জীবদ্দশায় আনুমানিক ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে ‘মা সোনাই চাঁদ আউলিয়া মন্দির’ স্থাপন করা হয়। সোনাইয়ের মৃত্যুর পরেও তার স্থাপিত মন্দির আঙিনায় চলে নাম সংকীর্ত্তন ও নবান্ন উৎসব। স্থানীয়দের উদ্যোগে ২০১২ সালে ওই মন্দিরটি পুননির্মাণ করা হয়। পঞ্জিকা মতে, প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তির দিন সংকীর্ত্তন ও গোসাই নবান্ন মহাউৎসবের মাধ্যমে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে প্রায় ২৪৫ বছর যাবত।’

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. ওলিউল্লাহ বলেন, যতটুকু জেনেছি এটি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মেলা। এখানে অনেক লোক সমাগম হয়। যতক্ষণ লোক সমাগম থাকবে ততক্ষণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ